নান্দাইলে দুই রাতে ৮ গরু চুরি, হতাশায় কৃষকগণ
নান্দাইলে দুই রাতে ৮ গরু চুরি, হতাশায় কৃষকগণ
তৌহিদুল ইসলাম সরকার, ময়মনসিংহের
নান্দাইলে মাত্র দুই রাতের ব্যবধানে তিন কৃষকের গোয়ালঘর থেকে আটটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের এ তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নান্দাইল পৌরসভার ঝালুয়া গ্রামে বাচ্চু মিয়ার একটি ষাঁড় এবং একই গ্রামের দিলু মিয়ার একটি গাভী ও একটি বড় বাছুর চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
চুরি হওয়া গরুগুলোর বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এলাকাবাসী জানান, ওই দুই বাড়িতে চুরির পর চোরচক্রটি আরও একটি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে বাড়ির লোকজন সতর্ক হয়ে গেলে তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অপেক্ষমাণ একটি কভার্ড ভ্যানে উঠে চোরচক্রটি পালিয়ে যায়। এর আগের রাতে, ৩ জুলাই দিবাগত রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদ মিয়ার গোয়ালঘরের তালা কেটে একটি গর্ভবতী গাভী ও মাঝারি আকারের চারটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি গোয়ালঘরের তালা ভাঙা এবং গরুগুলো নিখোঁজ দেখতে পান। ভুক্তভোগী শহিদ মিয়া বলেন, “গরুগুলো বিক্রি করে সংসারের অনেক পরিকল্পনা ছিল। এক রাতেই প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।” এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের এমন তৎপরতায় গবাদিপশু খামারি ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাহারুল ইসলাম বলেন, “৩ জুলাই রাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ৪ জুলাই রাতের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স